সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা-৮ আসন শূন্য হয়ে যাওয়ার যে দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শপথ নিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকলেও তাঁর সংসদ সদস্যপদ সম্পূর্ণ বহাল রয়েছে।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল) আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছিলেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।
নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল পৌনে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সকল সংসদ সদস্যের সঙ্গে মির্জা আব্বাসও শপথবাক্য পাঠ করেন।
শপথ শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “দেশবাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাতে পেরেছে। আমি তাদের প্রতিনিধি হয়ে অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বিত বোধ করছি।” পরবর্তীতে তাঁকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয়।
কিন্তু ঘটনার মোড় পাল্টে যায় ১১ মার্চ। ওইদিন ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গভীর রাতে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে সিঙ্গাপুর এবং পরে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্টে দাবি করা হতে থাকে যে, শপথ না নেওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী তাঁর আসন শূন্য হয়ে গেছে। কোনো কোনো পোস্টে বলা হয়, অসুস্থতার কারণে মির্জা আব্বাস ৯৫ দিনেও শপথ নিতে পারেননি।
এই দাবির পেছনে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৭(১)(ক)-এর একটি বিধানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য তাঁর নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে শপথ নিতে না পারলে আসন শূন্য হবে।
তবে এই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্পিকার যথার্থ কারণ থাকলে সময় বাড়াতে পারবেন। ভাইরাল পোস্টগুলোতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে — প্রথমত, ৯০ দিনের গণনা শুরু হয় নির্বাচনের দিন থেকে নয়, সংসদের প্রথম বৈঠকের দিন থেকে। দ্বিতীয়ত, যে সদস্য ইতিমধ্যেই শপথ নিয়েছেন, তাঁর ক্ষেত্রে এই বিধান আর প্রযোজ্যই নয়।
ফ্যাক্টওয়াচসহ একাধিক তথ্য যাচাইকারী সংস্থা অনুসন্ধান করে নিশ্চিত করেছে, মির্জা আব্বাস ১৭ ফেব্রুয়ারিই যথাযথভাবে শপথ নিয়েছেন এবং সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে তাঁর অবস্থান সাংবিধানিকভাবে সম্পূর্ণ বৈধ। তাই ঢাকা-৮ আসন শূন্য হওয়ার দাবিটিকে তারা সরাসরি মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
অন্যদিকে সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য সংসদের (স্পিকার) অনুমতি ছাড়া একটানা ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তাঁর আসন শূন্য ঘোষিত হয়। তবে সেটা গণনা হবে প্রথম বৈঠকের দিন থেকে। তাই ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠক যেহেতু ১২ মার্চ শুরু হয়, শেষ হয়েছে ৩০ এপ্রিল মাত্র ২৫ কার্যদিবস গিয়েছে।
ফলে মির্জা আব্বাসের ৯০ কার্যদিবস হতে হলে এখনো ৬৫ কার্যদিবসের সময় পড়ে আছে। ফলে সাংবিধানিকভাবে মির্জা আব্বাসের ঢাকা-৮ আসন আসন শূন্য হওয়ার দাবিটি মিথ্যা।
