রোববার, ২৪ মে ২০২৬
Logo
×

ইসরায়েলি পার্লামেন্ট বিলুপ্তির বিল পাস, নেতানিয়াহুর শাসন কি শেষ

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২০ মে ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন

দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন হচ্ছে না ইসরায়েলে। একের পর এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অজুহাতে দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রেবিন্দুতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এবার দীর্ঘদিনের এই নেসেট (পার্লামেন্ট) বিলুপ্তের বিল পাস হয়েছে। পাশাপাশি আগাম জাতীয় নির্বাচনের প্রাথমিক বিলও পাস হয়েছে নেসেটে। ধারণা করা হচ্ছে, নেতানিয়াহু বা তার দলের পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

বুধবার (২০ মে) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিলটির পক্ষে ১১০ জন আইনপ্রণেতা ভোট দিয়েছেন এবং এর বিপক্ষে কোনো ভোট পড়েনি বলে জানিয়েছেন নেসেটের স্পিকার আমির ওহানা।

তবে নিরাপত্তাসংক্রান্ত বৈঠকের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটির সময় বুধবার নেসেট অধিবেশনে অনুপস্থিত ছিলেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

রয়টার্সের তথ্যমতে, এই বিলটি অনুমোদনের মাধ্যমে ইসরায়েলে আগাম নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হলেও এটি চূড়ান্ত আইনে পরিণত হওয়ার আগে আরও অধিকতর পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে। দেশটিতে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২২ সালের মে মাসে। সেই অনুযায়ী, বর্তমান সংবিধান অনুসারে আগামী নির্বাচন চলতি ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তবে এই বিল পাসের পর এখন আগাম নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হলে আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। অন্যথায় পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী অক্টোবরে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।

ক্ষমতাসীন জোটের কট্টরপন্থি ইহুদি দলগুলোর আকস্মিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলে নেসেট বিলুপ্তির পরিস্থিতি আরও জোরালো হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে এসব দল লিকুদ পার্টি এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত হলেও চলতি মাসে তারা অবস্থান পরিবর্তন করেছে। দলগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নেতানিয়াহুকে তারা আর জোট শরিক হিসেবে দেখতে আর ইচ্ছুক নয়। এখন সরাসরি আগাম নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা।

সাম্প্রতিক একাধিক জরিপেও ওঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং তার দল লিকুদ পার্টির ওপর থেকে জোটসঙ্গী দলগুলোসহ সাধারণ ভোটারদের বড় অংশ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে কিংবা আগাম, যেভাবেই হোক না কেন, পরবর্তী নির্বাচনে নেতানিয়াহু ও লিকুদ পার্টির জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

তবে ইসরায়েলে এই মুহূর্তে সরকারের পতন হলে আসন্ন নির্বাচনের আগে নতুন আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করার মতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হবে। দেশের ভারসাম্য রক্ষা করতেই মূলত আস্থা হারানোর পরও কট্টরপন্থি দলগুলো এখনই লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ছে না।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...