রোববার, ২৪ মে ২০২৬
Logo
×

এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ার হয়ে লড়বে জাপান

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২২ মে ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন

বিশ্বকাপে জাপানের নাম শুনলে বড় বড় দলগুলোর এখন বুকে কাঁপন ধরে। বিশেষ করে ২০২২ সালের বিশ্বকাপের পর। কাতারে অনুষ্ঠিত চার বছর আগের সেই বিশ্বকাপে সামুরাইরা গ্রুপ পর্বে জার্মানি ও স্পেনের মতো ফুটবল পরাশক্তিকে পরাজিত করে ইতিহাসই গড়েছিল। দুই দলের বিপক্ষেই জয়ের ব্যবধান ছিল ২-১। এশিয়ান ফুটবলে বর্তমান ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে জাপানই সেরা। সামনের বিশ্বকাপে কতদূর যাবে দলটি? অতীতকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে কি?

একসময় বিশ্বকাপে জাপান মানেই ছিল ভদ্র, পরিশ্রমী একটি দল। যারা লড়াই করত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হারত। এখন সেই গল্প বদলেছে। জাপান এখন আর শুধু অংশ নিতে আসে না। চমক দেখাতেও আসে। স্বপ্ন দেখতেও আসে। গত বিশ্বকাপের মতোই এবারেও তাদের স্বপ্ন অনেক বড়। অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে চায় জাপান। কিংবা তারও ওপরের ধাপে! এই স্বপ্নের কেন্দ্রে আছেন ওয়াতারো এনডো। লিভারপুলের এই তারকা মিডফিল্ডার এখন জাপানি ফুটবলের হৃদস্পন্দন। তিনি শুধু এক ফুটবলার নন। তিনি নেতা। সামুরাইদের যোগ্য উত্তরসূরি, ভয়ংকর যোদ্ধা। পুরো দলের মানসিক শক্তিও। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিণত করেছে। লিভারপুলে নিয়মিত বড় ম্যাচ খেলার কারণে চাপ সামলানোর ক্ষমতাও বেড়েছে।

জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসু এনডোর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন বারবার। বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার সময়ও বলেছেন, ‘দলের ভিতরের শক্তি বাড়ায় এনডো।’ জাপানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত ফুটবল। মাঠে তারা দৌড়ায়, পরিশ্রম করে। প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। ছোট ছোট পাসে খেলার গতি বদলে দেয়। মাঝমাঠে এনডোর পাশে থাকতে পারেন দাইচি কামাডা ও তানাকা। দুজনই ইংলিশ লিগের ফুটবলার। আর ফরোয়ার্ড লাইনে আছেন তাকেফুসা কুবো, রিতসু দোয়ান ও আয়েসি ইয়েদা। দোয়ান গত বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনের বিপক্ষে জয়ের নায়ক ছিলেন। কুবোকে ঘিরেও বাড়তি আশা আছে জাপানের। অনেকেই তাকে জাপানের ভবিষ্যৎ সুপারস্টার মনে করেন। তবে দুঃসংবাদও আছে। ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন কাওরো মিতোমা। গত মার্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। তার অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগ কিছুটা দুর্বল হয়েছে জাপানের। রক্ষণেও কখনো কখনো সমস্যা দেখা যায়। বিশেষ করে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ভেঙে পড়ে জাপান। তবু এ জাপানই এশিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে পারে। কারণ এখন জাপানের ফুটবলাররা ইউরোপের বড় বড় ক্লাবে খেলেন। তাদের আত্মবিশ্বাসও আগের চেয়ে অনেক বেশি।

বিশ্বকাপে জাপানের সেরা সাফল্য এখন পর্যন্ত শেষ ষোলোতে খেলা। ২০০২, ২০১০, ২০১৮ ও ২০২২, চারবার শেষ ষোলোতে গিয়ে থেমেছে তারা। এবার তারা ইতিহাস বদলাতে চায়। আর সেই স্বপ্ন নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এনডো। হয়তো এই সামুরাই অধিনায়কের হাত ধরে জাপান লিখতে পারে বিশ্বকাপে তাদের সেরা গল্প!

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...