রোববার, ২৪ মে ২০২৬
Logo
×
বদলে যাবে পাহাড়ি কৃষি

সাঙ্গু নদীর তীরে গড়ে উঠছে আধুনিক টিস্যুকালচার ল্যাব

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২৩ মে ২০২৬, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন

বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে দেশের অন্যতম আধুনিক প্ল্যান্ট টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি। বালাঘাটা এলাকায় গড়ে ওঠা এই গবেষণাগারকে ঘিরে পাহাড়ি কৃষিতে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক, গবেষক ও উদ্যোক্তারা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সাঙ্গু তীরের এই স্থাপনাটি দূর থেকে দেখতে অনেকটা আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্টের মতো। তবে এটি মূলত আধুনিক কৃষি গবেষণা ও উন্নত চারা উৎপাদনের জন্য নির্মাণাধীন একটি বিশেষায়িত ল্যাব। জীববিজ্ঞানের কোষকেন্দ্র বা নিউক্লিয়াসের আদলে তৈরি গোলাকার ভবনটির নকশা ইতোমধ্যে সবার নজর কাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখানে অত্যাধুনিক মিডিয়া প্রস্তুতি রুম, ইনোকুলেশন ও ট্রান্সফার রুম, গ্রোথ রুম, হার্ডেনিং জোন, গ্লাস হাউস এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণের বিশেষ সুবিধা রাখা হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করে নির্মাণাধীন ভবনটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে প্রাকৃতিক আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, টিস্যুকালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ রোগমুক্ত ও মানসম্পন্ন চারা উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং কৃষকের ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

স্থানীয় কৃষকদের আশা, এই ল্যাব চালু হলে পাহাড়ি এলাকায় উন্নত জাতের কলা, আনারস, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফল, অর্কিডসহ উচ্চমূল্যের বিভিন্ন ফসলের চারা সহজলভ্য হবে। এতে তরুণদের কৃষির প্রতি আগ্রহও বাড়বে।

নারী কৃষকরাও এ প্রকল্পকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, উন্নত চারা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে পাহাড়ি নারীরা কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই কেন্দ্র শুধু চারা উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পাহাড়ি অঞ্চলের উপযোগী নতুন জাত উদ্ভাবন, মাতৃগাছ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি নিয়েও এখানে গবেষণা করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, এটি কেবল একটি ভবন নয়, বরং ভবিষ্যতের কৃষির জন্য একটি জ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের জন্য মানসম্পন্ন ও রোগমুক্ত চারা নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।

বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবনের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। গবেষণাগারের উপযোগী তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্মাণকাজে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কৃষিবিদদের মতে, এই আধুনিক টিস্যুকালচার ল্যাব ভবিষ্যতে পাহাড়ি কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে এটি উচ্চমূল্যের রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...