ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কোয়েম্বাটুরে মাত্র দশ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। শনিবারের এই বর্বর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
জানা গেছে, কোয়েম্বাটুর জেলার সুলুর এলাকার পল্লাপালায়ামের বাসিন্দা ওই শিশু দুই দিন আগে বাড়ির কাছের একটি দোকান থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। পরে তাকে স্থানীয় একটি পুকুরের ধারে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা শিশুটির শরীরে যৌন নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পান।
ঘটনার পর পরিবার ও এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুই আসামিকে শনাক্ত করে। মূল অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সী কার্তিক পুলিশের ঘেরাও এড়াতে একটি ভবনের প্রথম তলা থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এতে তার ডান হাত ও পা ভেঙে যায় এবং সে বর্তমানে কোয়েম্বাটুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সে অপরাধ স্বীকার করে এবং বন্ধু মোহনরাজের সম্পৃক্ততার কথা জানায়, যাকে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কার্তিককে POCSO আইনে এবং হত্যাসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় ঘটনাটিকে “অমানবিক ও ক্ষমার অযোগ্য” বলে নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং দোষীরা আইনের আওতায় কঠোরতম শাস্তি পাবে।
তিনি পুলিশকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে অবিলম্বে চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
এদিকে, জাতীয় নারী কমিশন ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে তামিলনাড়ুর পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে সাত দিনের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন তলব করেছে এবং অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে।
বিরোধী দলগুলোও এই ঘটনায় সরকারকে তীব্র সমালোচনায় বিঁধেছে। বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্তালিন অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যে যৌন সহিংসতার ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে।
AIADMK নেতা এডাপ্পাডি পালানিস্বামি বলেন, একটি নিরীহ শিশুর প্রাণ রক্ষা করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতারই প্রমাণ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
