ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৬ আসরের ৬৮তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস (এলএসজি) এবং পাঞ্জাব কিংস (পিবিকেএস)। লখনউয়ের ঘরের মাঠ একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে স্বাগতিকদের ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে পাঞ্জাব কিংস। টস জিতে লখনউকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় পাঞ্জাব। আর পাঞ্জাবের এই দাপুটে জয়ের মূল কারিগর ছিলেন তাদের অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ার, যিনি ৫১ বলে ১০১* রানের এক অবিস্মরণীয় অপরাজিত শতক হাঁকিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন।
টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ার। ঘরের মাঠে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে লখনউ সুপার জায়ান্টস শুরুতেই ধাক্কা খায়, যখন ওপেনার আরশিন কুলকার্নি মাত্র শূন্য রানে আজমতুল্লাহ ওমরজাইয়ের শিকার হন। তবে লখনউকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন জশ ইংলিশ। তিনি ৪৪ বলে ৭2 রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৯টি চার ও ২টি ছক্কার মার। মাঝপথে আয়ুশ বাদোনি মাত্র ১৮ বলে ৪৩ রানের একটি টর্নেডো ইনিংস খেলে রান তোলার গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।
লখনউয়ের ইনিংসের শেষভাগে আব্দুল সামাদ ২০ বলে ৩৭ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক ঋষভ পন্ত করেন ২২ বলে ২৬ রান। পাঞ্জাবের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানের একটি চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় লখনউ সুপার জায়ান্টস। পাঞ্জাব কিংসের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অভিজ্ঞ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল, যিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। এছাড়া মার্কো জানসেন ৩৩ রানে ২টি এবং ওমরজাই ও শশাঙ্ক সিং ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
১৯৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাব কিংসের শুরুটাও ভালো ছিল না। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য কোনো রান না করেই মোহাম্মদ শামির বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর তিনে নামা কুপার কনোলিও ১০ বলে ১৮ রান করে শামির দ্বিতীয় শিকার হন। তবে প্রাথমিক এই বিপর্যয়কে তুড়িতে উড়িয়ে দেন আরেক ওপেনার প্রভসিমরান সিং এবং অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ার। প্রভসিমরান ৩৯ বলে ৬৯ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ৭টি চার ও ২টি ছক্কা অন্তর্ভুক্ত ছিল। অর্জুন টেন্ডুলকারের বলে আউট হওয়ার আগে তিনি দলের জয়ের পথ সহজ করে দিয়ে যান।
প্রভসিমরান আউট হওয়ার পর উইকেটে এসে সূর্যংশ শেজগে (৭ বলে ৯*) অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গ দেন। উইকেটের অন্য প্রান্তে শ্রেয়াস আয়ার লখনউয়ের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান। তিনি মাত্র ৫১ বলে ১১টি চার ও ৫টি চোখ ধাঁধানো ছক্কার সাহায্যে ১০১ রানের এক বিধ্বংসী ও অপরাজিত শতক হাঁকান। আয়ারের এই খুনে ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে পাঞ্জাব কিংস মাত্র ১৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান তুলে ফেলে এবং ১২ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের এক সহজ জয় নিশ্চিত করে। লখনউয়ের বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ শামি ৪৫ রান দিয়ে ২টি এবং অর্জুন টেন্ডুলকার ৩৬ রান দিয়ে ১টি উইকেট লাভ করেন।
এই ম্যাচের ফলাফল দুই দলের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। টানা ৬টি ম্যাচে হারের পর এই মহাগুরুত্বপূর্ণ জয়ে পাঞ্জাব কিংসের প্লে-অফে যাওয়ার আশা এখনো টিকে রইল এবং এই বড় জয়ের ফলে তাদের নেট রান রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে +০.৩০৯। অন্যদিকে, লখনউ সুপার জায়ান্টস এই ম্যাচটি হারার আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল, ফলে ঘরের মাঠে এই পরাজয় তাদের জন্য কেবল সান্ত্বনার ব্যবধানটাই কমাল। ওয়ান ম্যান শোর মতো একাই ম্যাচটি জিতিয়ে পাঞ্জাবকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখলেন শ্রেয়াস আয়ার।
