আইপিএল ২০২৬-এর ৬৯তম হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং রাজস্থান রয়্যালস। বল এবং ব্যাট হাতে সমান দাপট দেখিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ৩০ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে রাজস্থান রয়্যালস। এই দুর্দান্ত জয়ের মাধ্যমে রাজস্থান রয়্যালস টুর্নামেন্টের প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া রাজস্থান রয়্যালসের তারকা পেসার জোফরা আর্চার ম্যাচসেরা (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হন।
ম্যাচের শুরুতেই টস জিতে ঘরের মাঠে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। তবে মুম্বাইয়ের আমন্ত্রণে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালো না হলেও মধ্যভাগে ঘুরে দাঁড়ায় রাজস্থান। তরুণ ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল ১৭ বলে ৩টি ছক্কা ও ১টি চারে ২৭ রান করে বিদায় নেন। বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ৪ রানে আউট হলেও ধ্রুব জুরেলের ২৬ বলে ৩৮ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস এবং রিয়ান পরাগের ৮ বলে ১৪ রানের ক্যামিও দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। মুম্বাইয়ের বোলারদের ওপর শুরুর চাপ বজায় রেখে রাজস্থান বড় স্কোরের ভিত গড়ে তোলে।
ইনিংসের শেষভাগে দাসুন শানাকার ১৫ বলে ২৯ রান এবং ডোনোভান ফেরেইরার ১৫ বলে ১৮ রানের কল্যাণে রাজস্থান বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যায়। তবে আসল টর্নেডো বইয়ে দেন জোফরা আর্চার; মাত্র ১৫ বলে ১টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে দৃষ্টিনন্দন ৩২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। শেষের দিকে রবীন্দ্র জাদেজার ১১ বলে অপরাজিত ১৯ রান এবং নান্দ্রে বার্গারের ৩ বলে ১০ রানের বদৌলতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রানের পাহাড়সম পুঁজি সংগ্রহ করে রাজস্থান রয়্যালস। মুম্বাইয়ের পক্ষে বোলারদের মধ্যে দীপক চাহার এবং শার্দুল ঠাকুর ২টি করে উইকেট শিকার করলেও বেশ খরুচে ছিলেন। এছাড়া উইল জ্যাকস, আল্লাহ গজানফর এবং কর্বিন বোশ ১টি করে উইকেট নেন।
২০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ইনিংসের প্রথম ওভারেই খাতা খোলার আগে শূন্য রানে বিদায় নেন দলের অভিজ্ঞ ওপেনার রোহিত শর্মা। এরপর নামান ধীর ৬ রান এবং রায়ান রিকেলটন ১২ রান করে দ্রুত সাজঘরে ফিরলে মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে মুম্বাই। দলের এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন সূর্যকুমার যাদব। চতুর্থ উইকেটে তিনি পাল্টা আক্রমণ শুরু করলেও অপর প্রান্তে তিলক বর্মা মাত্র ৩ রান করে আউট হয়ে যান।
পঞ্চম উইকেটে সূর্যকুমার যাদবকে দারুণ সঙ্গ দেন উইল জ্যাকস। জ্যাকস ১৮ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৩ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন। অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়াও মাত্র ১৫ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৪ রান করে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। অন্যপ্রান্তে সূর্যকুমার যাদব ৪২ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৬০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। তবে জোফরা আর্চারের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত মুম্বাইয়ের ব্যাটাররা টিকতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রানেই থমকে যায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ইনিংস।
রাজস্থান রয়্যালসের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন জোফরা আর্চার, তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ব্রিজেশ শর্মা ২৬ রানে ২টি, নান্দ্রে বার্গার ৪৩ রানে ২টি এবং যশ রাজ পুঞ্জা ৪৪ রানে ২ উইকেট শিকার করে মুম্বাইয়ের ব্যাটিং লাইনআপ ধ্বংস করে দেন। রাজস্থান রয়্যালসের নিয়ন্ত্রিত ও বিধ্বংসী বোলিং আক্রমণের সামনে নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে ৩০ রান দূরে থাকতেই শেষ হয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের লড়াই, আর সেই সাথে রাজস্থান মেতে ওঠে প্লে-অফে যাওয়ার উল্লাসে।
