পবিত্র হজের অন্যতম প্রধান ফরজ ‘ওকুফে আরাফা’ পালনে লাখো হাজির উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান। সেলাইবিহীন দুই টুকরো শুভ্র ইহরামের কাপড়ে আবৃত ধনী-গরিব, সাদা-কালো নির্বিশেষে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত কামনায় মগ্ন হয়েছেন।
মুখে উচ্চারিত হচ্ছে একটাই ধ্বনি— ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিয়ামাতা লাকাওয়াল মূলক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক।’
জানা গেছে, এবার হজে অংশ নিয়েছেন ১৫ লাখ ১৮ হাজার ১৫৩ জন হাজি। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে গেছেন প্রায় ৭৯ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।
৮ জিলহজ থেকে শুরু হওয়া হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে হাজিরা প্রথমে মিনায় অবস্থান করেন। সেখানে ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটানোর পর আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) ৯ জিলহজ সকালে তারা রওনা হন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে।
ইসলামের বিধান অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের প্রধান ফরজ। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা সেখানে দোয়া, জিকির ও ইবাদতে মশগুল থাকেন।
অনেক হাজি রহমতের পাহাড় জাবালে রহমতের কাছেও অবস্থান নিয়ে আল্লাহর কাছে কান্নাভেজা কণ্ঠে ক্ষমা ও মাগফিরাত প্রার্থনা করেন।
এদিকে আল্লাহর মেহমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজিরবিহীন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। আকাশে ড্রোন নজরদারি এবং মাটিতে হাজারো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে হজের প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতা।
বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে এবারের আরাফাতের খুতবাও। বাংলা ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাসহ বিশ্বের ৫০টি ভাষায় খুতবা অনুবাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এবারের ঐতিহাসিক খুতবা প্রদান করছেন মসজিদে নববির ইমাম শায়খ আলী আল-হুজাইফি।
সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফায় রওনা হবেন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন এবং শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন তারা।
১০ জিলহজ, পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে হাজিরা মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি ও মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে ইহরাম ত্যাগ করবেন। এরপর সম্পন্ন করবেন তাওয়াফে জিয়ারত।
১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে তিন শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।
পবিত্র মিনার বিশাল তাঁবুর নগরী এখন যেন মুসলিম ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক। সেখানে নেই কোনো বর্ণভেদ বা ধনী-গরিবের বিভাজন। সবার একটাই পরিচয়—তারা মহান আল্লাহর বান্দা। লাখো হাজির চোখের জল আর আকুল প্রার্থনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র ভূমি।
