সাম্প্রতিক কালে শিবিরের নেতাদের মধ্যে আলী জিন্নাহর দর্শন বেশ জনপ্রিয় বলেই মনে হয়। ডাকসু, রাকসু, জাকসু, এবং চাকসুতে শিবির যে স্ট্যাটেজি নিয়েছে সেটা হাইলি জিন্নাহ ইনফ্লুয়েন্সড। কিংবা কুরবানি কেন্দ্রিক ডিসকোর্সে শিবিরের ইয়াং ব্লাড জিন্নাহকে ডিফেন্ড করে বেশ লেখালিখি করছে, এটা তাদের ভেতরের এক নতুন বৌদ্ধিক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
শিবিরের এই ট্রান্সফরমেশন বেশ ইন্টারেস্টিং, তারা আগে অনেকটা নিজেদের ইন্টালেকচুয়াল বলয়ের বাইরের লিটারেচার বা দর্শন নিয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিল না। এখন তারা ভিন্ন দর্শন নিয়ে পড়ছে, নিজেদের মধ্যে আলাপ করছে, এবং সেটা প্রয়োগ করছে, এমনকি ডিফেন্ডও করতেছে। শিবিরের এই পরিবর্তন সাময়িক ট্যাকটিক্যাল মুভ নাকি ইন্টেলেকচুয়াল শিফট, সেটা বলার সময় এখনো আসে নাই।
শিবির নিঃসন্দেহে একটা সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ শক্তি।কিন্তু জামায়াতের রাজনীতিতে ব্যক্তি, দল ও আদর্শকেন্দ্রিকতার প্রতি গুরুত্ব বেশি দেওয়া হয়; সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক ভাষার সঙ্গে সংযোগের প্রশ্নটি অনেক সময় পেছনে পড়ে থাকে। এই কারনে খুবই স্ট্রং সংগঠন থাকার পরেও তারা পপুলার রাজনীতিতে তেমন ভাল করতে পারে নাই।
অন্যদিকে মুসলিম জাতীয়তাবাদ সাধারণ মানুষের কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য ও আবেগময় একটি রাজনৈতিক ধারণা। এটি পরিচয়, ইতিহাস ও ক্ষমতার প্রশ্নকে একত্রে তুলে ধরে। তবে এই ধারার মধ্যে একটি আধ্যাত্মিক শূন্যতা আছে। যদি শিবির তাদের ধর্মীয় রক্ষণশীলতা, নৈতিকতার ভাষা এবং মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চেতনার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ঘটাতে পারে, তাহলে তা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
লেখক: মীর সালমান সামিল, পিএইচডি গবেষক, জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র।
