পিট হেগসেথ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি নতুন ও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে উঠছে। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে “সত্যিকারের বন্ধুত্ব” প্রতিষ্ঠার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা ডায়ালগ–এ বক্তব্য শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে হেগসেথ এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
হেগসেথের ভাষায়, “পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিক বন্ধু। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থা তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তা ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।”
গত ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান অন্যতম মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করছে। এ ভূমিকার জন্য ইসলামাবাদের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও।
প্রশ্নোত্তর পর্বে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে পূর্ববর্তী মার্কিন মূল্যায়ন সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হলে হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পাকিস্তান বা ভারত—কোনো দেশকেই সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে না। উভয় দেশই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার সময় মার্কিন মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বর্তমান সহযোগিতার পরিবেশ সেই সম্পর্কেরই ধারাবাহিকতা।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে হেগসেথ বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি জানান, কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থ রক্ষায় অন্যান্য বিকল্প ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং ওয়াশিংটনের ইতিবাচক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
