যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ মামলার আসামি মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরতলীর ঝুমঝুমপুরের মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি যশোর শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ার বাসিন্দা এবং আব্দুল খালেকের ছেলে।
যশোর সদর আমলি আদালতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব আহম্মেদ ইমন তার জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) অলক কুমার দে জানান, মনিরুলের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি আলমগীর হোসেন হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহতের জামাই পরশ। শ্বশুরকে হত্যার জন্য ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করা হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার দিন হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ লাখ টাকা ভাগ করে দেওয়ার কথা ছিল। বিকেলে শুটার ত্রিদিব ওরফে মিশুকের হাতে এক লাখ টাকা ও একটি পিস্তল তুলে দেন পরশ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যার পর বাকি ৪ লাখ টাকা শংকরপুর এলাকার প্রিন্সের কাছ থেকে ধার নিয়ে পরিশোধের কথা ছিল এবং অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ১০ থেকে ১২ জন অংশ নেয়।
ঘটনার দিন তিনটি মোটরসাইকেলে ভাগ হয়ে হামলাকারীরা অভিযানে নামে। প্রথম মোটরসাইকেলে ছিলেন অমিত ও শুটার মিশুক। দ্বিতীয়টিতে আরও দুজন এবং তৃতীয়টিতে তিনজন ছিলেন। গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আলমগীর হোসেন শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা তাকে অনুসরণ করে। ইসহাক সড়কের একটি দোকানের সামনে তিনি থামলে তারাও অবস্থান নেয়।
সাবেক কাউন্সিলার নয়নের অফিসের কাছে পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে মিশুক গুলি চালায়। এরপর দুই মোটরসাইকেলে চারজন গোলপাতা মসজিদের দিকে পালিয়ে যায় এবং অপর মোটরসাইকেলটি বটতলার দিকে চলে যায়।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহতের জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেজপাড়া এলাকার ত্রিদিব ওরফে মিশুককে গ্রেপ্তার করা হয়। মিশুকের স্বীকারোক্তির পর রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার শাহীন কাজীকেও আটক করা হয়। শাহীন কাজীর জবানবন্দির সূত্র ধরে মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ পর্যন্ত আটক পাঁচজনের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত আলমগীর হোসেন যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কের বাসিন্দা। ঘটনার পর তার স্ত্রী শামীমা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় জামাই পরশ, সাগরসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটে লেখা ছিল— ‘হাদি ইজ নট নেম, হাদি মিনস বাংলাদেশ’।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
