সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
Logo
×

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হবে

আন্তর্জাতিক প্রথম সমাচার ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পথ তৈরি হয়েছে। আগামী শুক্রবার, ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে দুই পক্ষই নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে বিনা শুল্কে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ওই প্রণালিতে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদিও এই চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যাঁর দেশ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে, তিনিই সবার আগে এই চুক্তির সংবাদটি প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে সামরিক অভিযানের স্থায়ী সমাপ্তিতে সম্মতি হয়েছে। শরিফ কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের নেতৃত্বকেও এই চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা শুরু করলে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। একশোরও বেশি দিন ধরে চলা এই সংঘাতে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজগুলো বারবার হামলার মুখে পড়ে।

তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী গারিবাবাদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি, অবরোধ তুলে নেওয়া ও ইরানের জমে থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি যাচাই করার পরেই তেহরান ৬০ দিনের আলোচনা পর্বে যোগ দেবে। তিনি বলেন, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর মানেই শত্রুর ওপর আস্থা রাখা নয়।

ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চুক্তিটি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে একটি দৃঢ় বাধা হয়ে দাঁড়াবে এবং কোনো অর্থের লেনদেন ছাড়াই এটি বাস্তবায়িত হবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, প্রাথমিক এই সমঝোতা স্মারকটি কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার সূচনাবিন্দু হবে, চূড়ান্ত সমাধান নয়।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই চুক্তি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়, বরং দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি প্রথম ধাপ মাত্র। উপসাগরীয় কূটনীতিতে অভিজ্ঞ সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এনশার বলেছেন, হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি খুলবে না, ইরানও সঙ্গে সঙ্গে তার সকল সক্ষমতা সরিয়ে নেবে না — পুরো বিষয়টি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে।

সূত্র: আল জাজিরা

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...