দেশের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় গত কয়েকদিনে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
দাবি অনুযায়ী, এম.বি. ও এস.বি.এস. নামের ওই দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে সক্রিয় ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (R&AW)-এর কাছে নিয়মিত সরবরাহ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এতে আরও দাবি করা হয়, নজরদারিতে দেখা গেছে তারা দেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি সীমান্তপথ ব্যবহার করে ভারতে প্রবেশ করতেন। সেখানে সীমান্তবর্তী এলাকায় অপেক্ষারত বিএসএফের গাড়িতে করে তাদের মালদা স্টেশন হেডকোয়ার্টারে নেওয়া হতো এবং তারা র’-এর কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করতেন।
এছাড়া নজরদারির আরেক পর্যায়ে তাদের জলপাইগুড়ির বিন্নাগুরি সেনানিবাসে প্রবেশ করতে দেখা গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ, হার্ডড্রাইভ ও ল্যাপটপের প্রাথমিক পরীক্ষায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ম্যাপিং, স্পর্শকাতর তথ্য, সাংবাদিক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের ওপর নজরদারির তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন এবং উসকানিমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার অভিযোগও করা হয়েছে।
এছাড়া ভারতের মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স-সংক্রান্ত কিছু নথি এবং ভারতে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকা কয়েকজন ব্যক্তির তথ্যও উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
দাবিতে আরও বলা হয়, দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আটক দুই ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এসব তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো প্রকাশিত হয়নি।
