দীর্ঘ এক দশকের পতনের ধারা কাটিয়ে ভারতীয় রুপির বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থানে ফিরছে বাংলাদেশি টাকা।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত টাকার মান রুপির বিপরীতে প্রায় আড়াই শতাংশ বেড়েছে, আর গত এক বছরের হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় সাত শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরল।
সংখ্যার হিসাবে পরিবর্তনটি স্পষ্ট। ২০২৫ সালের মে মাসে এক ভারতীয় রুপি কিনতে লাগত প্রায় ১ টাকা ৪৪ পয়সা। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই হার নেমে এসেছে ১ টাকা ৩১ পয়সায়।
অর্থাৎ একই পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় এখন আগের চেয়ে বেশি ভারতীয় রুপি পাওয়া যাচ্ছে, যা ভারতে চিকিৎসা, পড়াশোনা বা পণ্য আমদানিতে নির্ভরশীল বাংলাদেশিদের জন্য সরাসরি সুখবর।
অথচ গত এক দশকের চিত্র ছিল একেবারে উল্টো। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশি টাকা রুপির বিপরীতে প্রায় বারো শতাংশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেই ধারায় এই পরিবর্তন কেবল সংখ্যার হেরফের নয়, এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক বিপরীত গতির ইঙ্গিত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তনের পেছনে দুটি শক্তি একসঙ্গে কাজ করছে। একদিকে ভারতীয় রুপি নিজেই বৈশ্বিক বাজারে চাপে পড়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে সাম্প্রতিক ইতিবাচক গতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি টাকাকে একটি স্থিতিশীল ভিত দিচ্ছে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, এই ইতিবাচক ধারা দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে হলে কেবল বাইরের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করলে চলবে না। রপ্তানি বৈচিত্র্য, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশৃঙ্খল মুদ্রানীতি একসঙ্গে নিশ্চিত করা না গেলে এই অর্জন ধরে রাখা কঠিন হবে।
সূত্র: exchange-rate.org—BDT to INR
