দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে সচল ও গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে আগামী এক বছরের মধ্যেই স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, “আগেও বলেছি, এখনো বলছি—আমরা চেষ্টা করব আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার।”
মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ চার দিনব্যাপী চলমান জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ এর পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্থানীয় সরকারই গণতন্ত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত এবং তৃণমূল পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও শক্তিশালী করা গেলে সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় সেবার মান আরও উন্নত হবে।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়, মাঠপর্যায়ে সেবা কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং প্রশাসনিক কিছু প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের বেশ কয়েকটি সুপারিশ সরকার ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে সরকার পর্যায় থেকে জানানো হয়েছিল, ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তবে এবার প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করে আগামী এক বছরের মধ্যে সব স্তরের নির্বাচন শেষ করার রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরলেন মির্জা ফখরুল।
তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে, দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব দুর্বলতা কাটিয়ে স্থানীয় সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, জাতীয় নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক গতি তৈরি হচ্ছে। সরকারের এই ঘোষণায় তৃণমূল জনপ্রতিনিধিত্ব দ্রুত পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
