কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটিকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের একাংশ। কমিটি ঘোষণার পরপরই জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং এরই মধ্যে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিক্ষোভকারীদের ‘শিলংয়ের কমিটি মানি না, মানব না’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কে টায়ার ফেলে অবস্থান নিয়ে একদল যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা নতুন ঘোষিত কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে স্লোগান দিচ্ছেন এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আপত্তি তুলছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া বা পুরোপুরি বাদ পড়া নেতাকর্মীরাই এই কর্মসূচির নেতৃত্বে রয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জেলার ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয় কর্মীদের মূল্যায়ন না করে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কারণেই তারা নতুন নেতৃত্বকে ‘আরোপিত’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। ‘শিলংয়ের কমিটি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তারা বোঝাতে চেয়েছেন, এই কমিটি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত বা সাংগঠনিক বাস্তবতা বিবেচনায় না এনে বাইরে বসে নির্ধারণ করা হয়েছে—এমন ধারণাই তাদের মধ্যে কাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে কিছু নেতাকর্মী কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, অসন্তোষ শুধু জেলা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কক্সবাজার জেলা শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করে। ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে কমিটির গঠন, পদবণ্টন এবং নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। একাধিক ত্যাগী নেতাকর্মী নিজেদের বঞ্চিত দাবি করে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকেন। সেই ক্ষোভই এখন সড়কের বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলা ছাত্রদলের এই প্রকাশ্য বিভাজন সাংগঠনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করা কর্মীরা যদি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে আস্থা হারান, তবে তা ভবিষ্যতে বৃহত্তর দলীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে বলছেন, ছাত্রদলের মতো বড় ছাত্রসংগঠনের জেলা কমিটি নিয়ে এমন প্রকাশ্য বিদ্রোহ দলটির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সংকটকেই সামনে নিয়ে এসেছে। এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কীভাবে এই অসন্তোষ সামাল দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।
