ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন মোহাম্মদ ইসহাক সরকার। সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে, তিনি তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদানের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) এবি পার্টি ও ‘আপ বাংলাদেশ’ থেকে কয়েকজন নেতা দলটিতে যোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কিছু নেতার সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে দলটি। সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং ইসহাক সরকার।
এ বিষয়ে ইসহাক সরকার গণমাধ্যমকে জানান, এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং তিনি যোগ দিতে পারেন।
রাজনৈতিক জীবনে ইসহাক সরকার দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন বিএনপির অঙ্গসংগঠনে। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিতে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়।
তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আইনি জটিলতার মধ্যেও ছিলেন ইসহাক সরকার। রাজধানীর বংশাল ও কোতোয়ালি থানার দুটি নাশকতার মামলায় তাকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও গত বছরের নভেম্বরে আদালত তাকে খালাস দেন।
সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ (লালবাগ-কামরাঙ্গীরচর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন তিনি। ওই নির্বাচনে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন ইসহাক সরকার, যেখানে বিএনপি প্রার্থী হামিদুর রহমান বিজয়ী হন।
সব মিলিয়ে, বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর নতুন রাজনৈতিক ঠিকানা খোঁজার প্রেক্ষাপটে এনসিপিতে তার সম্ভাব্য যোগদান এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
