রাজধানীর মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজ-এ কামরুল হাসান সুজন নামে ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী কামরুল হাসান সুজন কলেজটির ইংরেজি বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থী। সহপাঠী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সামান্য কথাকাটাকাটির জেরে মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে তাকে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন ছাত্রদল পরিচয়ধারী কয়েকজন নেতা-কর্মী। এ সময় সুজনকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগীর সহপাঠীরা বলেন, “ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এভাবে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।”
তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কলেজ প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি তিতুমীর কলেজে শিক্ষার্থী নির্যাতন, অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক সহিংসতার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এর আগে একই ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে ঘিরে হামলা, সংঘর্ষ ও শিক্ষার্থী মারধরের কয়েকটি ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা কলেজটির সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
