ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক সহিংসতা, প্রশাসনিক নীরবতা এবং বিচারহীনতার অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেন, হামলার শিকার হওয়ার পরও ভুক্তভোগীরা ন্যূনতম আইনি সুরক্ষা কিংবা প্রশাসনিক সহায়তা পাচ্ছেন না; বরং উল্টো তাদেরই দায়ী করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
মুসাদ্দিক আলীর অভিযোগ, থানার ভেতরেই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে এবং মারধরের মাত্রা এমন ছিল যে আহতদের কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। কিন্তু পরে ভুক্তভোগীরা বিচার চাইতে থানায় গেলেও অভিযোগ গ্রহণে অনীহা দেখানো হয়। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনের কাছেও একাধিকবার বিচার চাওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর অবস্থান দেখা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, একটি ঘটনার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পক্ষে একাধিক তথ্যপ্রমাণ ও সামাজিক অনুসন্ধান সামনে এলেও যথাযথ তদন্ত ছাড়াই তাকেই কারণ দর্শানোর মুখে পড়তে হয়েছে। অথচ শাহবাগ থানায় শিক্ষার্থীদের ওপর প্রকাশ্য হামলার ভিডিওচিত্র থাকার পরও প্রশাসন এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে—ঘটনাটি নিন্দনীয় কি না, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই নাকি যাচাই করতে হচ্ছে। তার ভাষায়, “যেখানে প্রমাণ স্পষ্ট, সেখানে তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ মানে বিচারকে দূরে ঠেলে দেওয়া।”
ডাকসু এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, একই প্রতিষ্ঠানে সবার জন্য আইন সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত এলেও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসন বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। এতে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তাহীনতা যেমন বাড়ছে, তেমনি বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাও ক্ষয়ে যাচ্ছে। তার মতে, এই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে এক ধরনের ‘নব্য ফ্যাসিবাদী’ সংস্কৃতির জন্ম দিচ্ছে, যেখানে ক্ষমতাসীন পক্ষের সুবিধামতো আইন প্রয়োগ হচ্ছে এবং আক্রান্তরাই দোষারোপের শিকার হচ্ছেন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সবশেষে হয়তো এমন অবস্থাও তৈরি হতে পারে যেখানে হামলার শিকার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই পাল্টা মামলা দেওয়া হবে। অতীতে একই ধরনের ঘটনাপ্রবাহের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনিক পক্ষপাত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তবে এত কিছুর পরও শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবস্থান অটুট রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মুসাদ্দিক আলী। তার ভাষায়, এই নৈতিক শক্তিই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও বেগবান করবে এবং ভয়ভীতি বা দমননীতির মুখেও প্রতিবাদ থামবে না। শেষাংশে খানিক ব্যঙ্গ, খানিক সতর্কবার্তার সুরে তিনি লেখেন—ফ্যাসিবাদী পথে না হাঁটার আহ্বানই তাদের এই প্রতিবাদের মূল উদ্দেশ্য, কারণ তারা এখনও মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে ভালোবাসে বলেই সতর্ক করছে।
মুসাদ্দিক আলীর এই বক্তব্য প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তুলছে। অন্যদিকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
