বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রমে মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে কেন্দ্র করে জালিয়াতির একটি ঘটনা সামনে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী তার নানার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাবার নামে উপস্থাপন করে কোটাভিত্তিক সুবিধায় ভর্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। তবে নথিপত্র যাচাইয়ের সময় বিষয়টি ধরা পড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তার ভর্তি বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ভর্তি কার্যক্রমের প্রথম দিনেই ঘটনাটি ঘটে। প্রার্থী নির্ধারিত কাগজপত্র জমা দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিলেও যাচাই-বাছাইয়ের সময় মুক্তিযোদ্ধা সনদের সঙ্গে পারিবারিক তথ্যের অসামঞ্জস্য নজরে আসে। পরে বিস্তারিত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, উপস্থাপিত সনদটি তার বাবার নয়; বরং নানার। সেই সনদ বাবার নামে দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
ঘটনা ধরা পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে প্রার্থীর ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করে। পরে তাকে লিখিত মুচলেকা নেওয়ার মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী এটি গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তার ভর্তি আবেদন সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে।
প্রক্টরিয়াল সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন কোটায় ভর্তিকে কেন্দ্র করে তথ্য গোপন কিংবা নথি বিকৃত করার অভিযোগ বাড়ছে। সে কারণে এবার শুরু থেকেই সব ধরনের কাগজপত্র বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য বিশেষ কোটার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পারিবারিক পরিচয়, জাতীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং সরকারি সনদের মিল খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। একজন অযোগ্য প্রার্থী যাতে ভুয়া তথ্য দিয়ে সুযোগ না নিতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট ডিন অফিস, শিক্ষা শাখা এবং যাচাই কমিটিকে আরও কঠোরভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে নথিপত্র যাচাইয়ের ডিজিটাল সমন্বয় বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।
এদিকে চলমান ভর্তি কার্যক্রমে প্রথম দিনেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পন্ন করেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মেধাতালিকায় সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন নির্ধারিত কেন্দ্রে রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করছেন। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই, অনুষদভিত্তিক কাগজপত্র অনুমোদন, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং হলের আসন বরাদ্দ শেষে চূড়ান্ত ভর্তি সম্পন্ন হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি অনিয়ম ধরা পড়লেও এটি প্রশাসনের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। কারণ ভর্তি মৌসুমে সামান্য অসতর্কতা মেধাবী ও প্রকৃত যোগ্য শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই পুরো প্রক্রিয়াকে শতভাগ সুষ্ঠু ও নির্ভুল রাখতে কর্তৃপক্ষ এবার বাড়তি নজরদারির পথেই হাঁটছে।
