বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনির সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন টকশোতে বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য আগেও সমালোচিত হওয়া এই নেত্রীকে ঘিরে এবার নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে, কারণ তার মুখ থেকে উঠে এসেছে এমন একটি তুলনা, যা অনেকের কাছে ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মনে হয়েছে।
যাকাত ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং মুসলিম সমাজে এটি শুধু দান নয়, বরং সম্পদের ভারসাম্য, দরিদ্রের অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বণ্টনের একটি বাধ্যতামূলক বিধান। বাংলাদেশ সরকারও সম্প্রতি যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করে দারিদ্র্য কমানোর কথা বলেছে। সেই যাকাতকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে চাঁদাবাজির মতো একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে তুলনামূলক ভালো হিসেবে দেখানো—এমন বক্তব্য সাধারণ মানুষকে বিস্মিত করাই স্বাভাবিক।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নিলুফার মনির নাম নতুন নয়, তবে তার বক্তব্য ঘিরে বিতর্কও নতুন নয়। এর আগেও তিনি শহীদ ও সংবেদনশীল ইস্যুতে একাধিক বেফাঁস মন্তব্য করে জনরোষের মুখে পড়েছিলেন। ফলে অনেকেই বলছেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ‘স্লিপ অব টাং’ নয়; বরং জনসম্মুখে দায়িত্বহীন কথাবার্তা বলার একটি ধারাবাহিক প্রবণতা।
সামাজিক মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক হয়ে তিনি কী বার্তা দিতে চাইছেন? ছোট প্রজন্মকে কি তিনি শেখাতে চাইছেন যে সংগঠিত অপরাধ, জবরদস্তি অর্থ আদায় বা চাঁদাবাজি ধর্মীয় দানের চেয়েও গ্রহণযোগ্য? রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, অর্থনৈতিক বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু মুসলমানদের ফরজ বিধান যাকাতকে অবজ্ঞা করে চাঁদাবাজিকে ‘ভালো’ বলা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক ভাষা হতে পারে না—এমন মতই প্রাধান্য পাচ্ছে জনমনে।
সমালোচকরা আরও বলছেন, বয়স ও অভিজ্ঞতা একজন নেতাকে পরিণত করে, কিন্তু বারবার আবোলতাবোল মন্তব্য করলে সেই অভিজ্ঞতার মূল্যও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। টেলিভিশনের আলোচনায় অংশ নিতে গেলে অন্তত শব্দ বাছাই, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং জনমানসে এর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। কারণ একটি ভুল বাক্য কখনও কখনও হাজার বক্তব্যকেও ম্লান করে দেয়।
রাজনীতিতে তর্ক থাকবে, মতভেদ থাকবে, বক্তব্যের ঝাঁঝও থাকবে—কিন্তু তাই বলে চাঁদাবাজির মতো অপরাধকে স্বাভাবিকীকরণ আর যাকাতের মতো পবিত্র বিধানকে খাটো করা গ্রহণযোগ্য নয়। নিলুফার মনির এই মন্তব্য তাই শুধু বিতর্ক নয়, বরং তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বক্তব্যের দায়বদ্ধতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
