ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়কে ঘিরে জার্মান শাখা বিএনপির উদ্যোগে শুকরিয়া, দোয়া মাহফিল ও বিজয়োৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের সালবাউ ওবারআডে মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
জার্মানি বিএনপির সভাপতি দেওয়ান শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। পরে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বিজয় উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রবাসী নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং মিষ্টিমুখ করিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে প্রবাসী বিএনপির নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ এবং নানা প্রতিকূল সময়েও তারা দলের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে দেওয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করে একটি জনকল্যাণমুখী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সফল হবে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের বিভিন্ন জনবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে “দেশবন্ধু” উপাধি দেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ এসেছে এবং এখন দেশ পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রবাসীদেরও এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, জার্মানি ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। প্রবাসীরা সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন বলেও মত দেন তারা।
আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও আইনের শাসনভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে জনগণের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি। নতুন সরকারকে সেই আস্থার প্রতিদান দিতে হবে বাস্তব কাজের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ, জাতি ও সরকারের সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
এ সময় জার্মানি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।
