অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেছেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ নিয়ন্ত্রণ করতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাত সদস্যের একটি অনানুষ্ঠানিক গোষ্ঠী সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিতো। এ পরিস্থিতিতে তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেও জানান।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন বলেন, সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের মতামত অনেক সময় গুরুত্ব পেত না। নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে ওই সাত সদস্যের গ্রুপ কার্যত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করতো বলে দাবি করেন তিনি।
ভোটের মাত্র তিনদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির বিষয়েও কথা বলেন তৌহিদ হোসেন। তিনি দাবি করেন, ওই চুক্তির সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী “সামান্যতমও জড়িত ছিলেন না”। তার ভাষায়, পুরো বিষয়টি মূলত কমার্স মিনিস্ট্রি ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দায়িত্ব নিয়ে চিঠি লেখা হলেও তা সফল হবে বলে তিনি আশা করেননি বলেও মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে বিএনপির সরকার পরিচালনার সক্ষমতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৈশ্বিক শক্তিগুলোকে সামাল দেওয়া তারেক রহমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, “পৃথিবীর সব বড় ঘটনাতেই কোনো না কোনোভাবে ডিপ স্টেট জড়িত থাকে।” তবে তার মতে, ডিপ স্টেট সাধারণত স্রোতের বিপরীতে কাজ না করে পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে ‘ম্যানিপুলেট’ করার চেষ্টা করে।
তিনি আরও বলেন, নিজের মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে অন্যদের হস্তক্ষেপ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবে তিনি একাধিকবার বিব্রত হন। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে তিনবার পদত্যাগের চিন্তা করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
তৌহিদ হোসেনের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং অনানুষ্ঠানিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
