জাতীয় সংসদে অর্থনৈতিক নীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা মোল্লা ফারুক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন, সংসদে সালাউদ্দিন আহমদ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিকের উদ্ধৃতি দিলেও বাস্তবে সরকারের পদক্ষেপের সঙ্গে সেসব বক্তব্যের মিল নেই।
মোল্লা ফারুকের দাবি, ফরাসি অর্থনীতিবিদ ফ্রেডেরিক বাস্তিয়ার ‘What is Seen and What is Not Seen’ প্রবন্ধের আলোকে সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, দুদকের ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার দৃশ্যমান সুফল রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীনদের জন্য হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস, দুর্নীতির সংস্কৃতি বিস্তার এবং রাজস্ব ব্যবস্থার ক্ষতি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আনা দুদকসংক্রান্ত আইনি সংস্কার বাতিল করে বর্তমান সরকার সংস্থাটিকে দলীয় প্রভাবের আওতায় নিয়ে এসেছে এবং এর কার্যকর ক্ষমতা কমিয়েছে।
জোসেফ স্টিগলিৎসের বক্তব্য উদ্ধৃত করার প্রসঙ্গ টেনে এনসিপি নেতা বলেন, স্টিগলিৎস শুধু বিশ্বায়নের সমালোচনাই করেননি; তিনি স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন। অথচ বর্তমান সরকার সেই নীতির বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ড্যারন অ্যাসেমোগলু ও জেমস রবিনসনের ‘Why Nations Fail’ গ্রন্থের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মোল্লা ফারুক বলেন, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। তাঁর ভাষ্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দুর্বল হলে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, একই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংকট তৈরি হবে।
সিঙ্গাপুরের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউয়ের শাসনব্যবস্থার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের উন্নয়নের ভিত্তি ছিল মেধাভিত্তিক প্রশাসন, আইনের শাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত সরকার। কিন্তু এসব নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে সেগুলোর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে মোল্লা ফারুক বলেন, ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানই একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মূল ভিত্তি। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার বিভাগ স্বাধীন না থাকলে ক্ষমতার পালাবদল হলেও দুর্নীতি ও জবাবদিহির সংকটের পরিবর্তন হবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের ব্যর্থতার জন্য দায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সংস্কারের পরিবর্তে বর্তমান সরকার সেটিকেই নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আরও শক্তিশালী করছে।
