যুক্তরাজ্যের ৫১ বছর বয়সী নির্মাণকর্মী টমি ম্যাকহিউর জীবনে এক বিরল চিকিৎসাগত ঘটনা নাটকীয় পরিবর্তন এনে দেয়। একটি দুর্ঘটনার পর তিনি এমন সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারী হন, যা এর আগে তার মধ্যে কখনো দেখা যায়নি।
জানা যায়, একদিন টয়লেটে থাকার সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনে দ্রুত বের হওয়ার জন্য তিনি অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করেন। এতে তার রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যায় এবং মস্তিষ্কে থাকা দুটি অ্যানিউরিজম ফেটে গিয়ে গুরুতর রক্তক্ষরণ হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
চিকিৎসকরা তার জীবন রক্ষায় প্রায় এক সপ্তাহ কৃত্রিম কোমায় রাখেন। পরে জ্ঞান ফিরে এলেও পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্য করেন, টমির আচরণ ও ব্যক্তিত্বে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে।
দুর্ঘটনার আগে তিনি ছিলেন একজন সাধারণ নির্মাণশ্রমিক, যার শিল্পকলা বা সৃজনশীলতার সঙ্গে তেমন কোনো সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর হঠাৎ করেই তার মধ্যে ছবি আঁকা, ভাস্কর্য তৈরি এবং বিভিন্ন সৃষ্টিশীল কাজে গভীর আগ্রহ জন্ম নেয়।
কয়েক মাস ধরে তিনি স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারতেন না। তার মুখ থেকে বের হওয়া অনেক কথাই অনিচ্ছাকৃতভাবে ছন্দে রূপ নিত। পাশাপাশি ঘরের দেয়াল, ছাদ ও মেঝেতে ছবি আঁকা এবং হাতের কাছে পাওয়া বিভিন্ন জিনিস দিয়ে ভাস্কর্য তৈরিতে মগ্ন হয়ে পড়েন। সৃষ্টিশীলতার প্রবল তাড়নায় তিনি অনেক সময় রাতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমাতেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল অবস্থাকে অ্যাকোয়ার্ড স্যাভান্ট সিনড্রোম (Acquired Savant Syndrome) বলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কে আঘাত, স্ট্রোক বা অন্য কোনো স্নায়বিক ঘটনার পর খুব অল্পসংখ্যক মানুষের মধ্যে হঠাৎ নতুন কোনো অসাধারণ দক্ষতা বা প্রতিভা বিকশিত হতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এ ধরনের নিশ্চিত ঘটনার সংখ্যা একশটিরও কম।
টমির এই পরিবর্তন তার ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলে। একপর্যায়ে দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটলেও তিনি নিজের নতুন পরিচয়কে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তার আঁকা ছবি ও ভাস্কর্য বিভিন্ন প্রদর্শনীতে স্থান পায় এবং তিনি একজন পেশাদার শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
