বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভুলে না যেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর [United Nations High Commissioner for Refugees (UNHCR)]। চলতি বছর মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে গণহারে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পূর্ণ হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান সংস্থাটির মুখপাত্র বাবর বালোচ। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা বাস্তুচ্যুত হয়ে আসছেন। বাংলাদেশ ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগ থেকে বিভিন্ন সময়ে আগত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। সবচেয়ে বড় ঢলটি আসে ২০১৭ সালের আগস্টে, যখন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা সহিংসতার মুখে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
বাবর বালোচ বলেন, বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকট ও অস্থিতিশীলতা বাড়তে থাকায় সীমিত সম্পদের মধ্যে জরুরি চাহিদাগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হচ্ছে। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবাগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি আরও জানান, গত মাসে জাতিসংঘ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জরুরি চাহিদা পূরণে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে। তবে এ আবেদন গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।
ইউএনএইচসিআর জানায়, মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁটের কারণে রোহিঙ্গারা এখনও ব্যাপকভাবে ত্রাণনির্ভর অবস্থায় রয়েছে। সীমিত অর্থনৈতিক সুযোগ ও কমে যাওয়া সহায়তা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে। বিশেষ করে নারী, কন্যাশিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকে রাখাইনে নতুন সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
ইউএনএইচসিআর আরও বলেছে, মিয়ানমারে সংঘাত ও সহিংসতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
